Time tribune
Time tribune
Update : Sunday 25th May 2025, 03:45 pm
Online Edition
No caption
ডাস্ট বা ধুলাবালি থেকে অ্যালার্জি একটি সাধারণ সমস্যা। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। গ্রীষ্মকালের শুষ্ক মৌসুম ও গরমে অনেকের সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে। ঘরের ধুলা, মাইট, পোষা প্রাণীর লোম বা ফাঙ্গাসের কারণে হাঁচি, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শ্বাসকষ্ট এমনকি এক্সিমা পর্যন্ত হতে পারে। তবে কিছু সতর্কতা ও ঘরোয়া উপায় মেনে চললে ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
ডাস্ট অ্যালার্জির লক্ষণ
১. ঘন ঘন হাঁচি বা নাক চুলকানো।
২. নাক বন্ধ বা সর্দি হওয়া।
৩. চোখ লাল, চুলকানি বা পানি পড়া।
৪. শ্বাস নিতে কষ্ট বা বুকের মধ্যে শোঁ শোঁ শব্দ।
৫. ত্বকে র্যাশ বা এক্সিমা
ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে বাঁচার ১০টি কার্যকর উপায়
১. বিছানা ও বালিশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন
ডাস্ট মাইট সবচেয়ে বেশি থাকে ম্যাট্রেস, কার্পেট, বালিশ ও কম্বলে। সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি দিয়ে বেডশিট, বালিশের কভার ও কম্বল ধুয়ে ফেলুন। এন্টি-অ্যালার্জেন কভার ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাবেন।
২. ঘর থেকে কার্পেট ও ভারী পর্দা কমিয়ে ফেলুন
কার্পেট ও মোটা পর্দায় ধুলা জমে থাকে। তাই ঘরে কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো করুন, সেই সঙ্গে পাতলা পর্দা ব্যবহার করুন, যা সহজে ধোয়া যায়।
৩. ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুম ক্লিনার ব্যবহার করুন
কার্পেট ব্যবহার করতে চাইলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করুন। সাধারণ ভ্যাকুম ক্লিনার ধুলা পুরোপুরি সরাতে পারে না। ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুম ক্লিনার ব্যবহার করলে ধুলার কণা ফিরে আসে না। সপ্তাহে ২-৩ বার ভ্যাকুম করুন।
৪. এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন
বদ্ধ ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার রাখলে বাতাসের ধুলা, পোলেন ও পোষা প্রাণীর লোম ফিল্টার হয়ে যায়। শোবার ঘরে এটি রাখলে রাতে শ্বাসকষ্ট কম হবে।
৫. ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডাস্ট মাইট ও ফাঙ্গাস আর্দ্র পরিবেশে বংশবিস্তার করে। ঘরের আর্দ্রতা ৫০ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করুন। এয়ার কন্ডিশনার বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
৬. পোষা প্রাণীকে নিয়মিত গোসল করান
পোষা প্রাণীর লোম ও ত্বকের কোষ অ্যালার্জি বাড়ায়। সপ্তাহে একবার তাদের গোসল করালে অ্যালার্জেন কমবে। শোবার ঘরে পোষা প্রাণী না রাখাই ভালো।
৭. বই ও জিনিসপত্র ঢেকে রাখুন
বই ও খেলনা জাতীয় জিনিসপত্রে ধুলা জমে। এসব কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং নিয়মিত ডাস্টিং করুন।
৮. ধূমপান ও সুগন্ধি এড়িয়ে চলুন
সিগারেটের ধোঁয়া ও রুম ফ্রেশনার অ্যালার্জি বাড়াতে পারে। বাড়িতে ধূমপান করবেন না এবং সুগন্ধিযুক্ত ক্লিনিং প্রোডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
৯. প্রাকৃতিক ক্লিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করুন
ভিনেগার, বেকিং সোডা ও লেবু দিয়ে ঘর পরিষ্কার করুন। কেমিক্যাল ক্লিনার অ্যালার্জি বাড়াতে পারে।
১০. ডাক্তারের পরামর্শ নিন
যদি অ্যালার্জি খুব বেশি হয়, তবে অ্যালার্জিস্টের পরামর্শ নিন।
ডাস্ট অ্যালার্জি পুরোপুরি দূর করা কঠিন, কিন্তু সঠিক পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার, এয়ার ফিল্টার ব্যবহার এবং পোষা প্রাণীর যত্ন নিলে ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। তবে অ্যালার্জির সমস্যা বেশি হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
এএমপি/আরএমডি/জিকেএস